1. abdulmotin52@gmail.com : ABDUL MOTIN : ABDUL MOTIN
  2. madaripurprotidin@gmail.com : ABID HASAN : ABID HASAN
  3. jmitsolution24@gmail.com : support :
মাদারীপুরে সম্পত্তি লিখে নিয়ে মাকে মারধরের পর ঘর থেকে বের করে দিলো সন্তানরা - Madaripur Protidin
সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৩৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
মাদারীপুরে ডিবির অভিযানে ৭ জন আটক, ইয়াবা উদ্ধার রাজৈরে যাত্রীবাহী বাস ও মাহিন্দ্রের মুখোমুখি সংঘর্ষে কিশোরী নিহত, আহত ২ রাজৈরে দুঃস্থ   পরিবারকে আধাপাকা ঘর নির্মান করে দিচ্ছে  গাংকান্দি উন্নয়ন ফাউন্ডেশন রাজৈরে ৮কেজি গাজাসহ যুবক গ্রেপ্তার মাদারীপুরের টেকেরহাটে আধুনিক মানের  প্রাইভেট হসপিটালের উদ্বোধন করলেন এমপি জাহান্দার আলী মিয়া।  মাদারীপুরের কালকিনিতে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানের গাছ কাটার অভিযোগ শেখ হাসিনাকে দেশে আসলেই গ্রেফতার হবেন – মাদারীপুরে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ মাদারীপুরে বিল থেকে বাকপ্রতিবন্ধী শ্রমিকের মরদেহ উদ্ধার মুকসুদপুরে যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাঁদে পড়ে নিহত-৩, আহত-৩০  মাদারীপুরে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা খাতে সেবার মানোন্নয়ন এবং সেবাপ্রদানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে গণশুনানি অনুষ্ঠিত

মাদারীপুরে সম্পত্তি লিখে নিয়ে মাকে মারধরের পর ঘর থেকে বের করে দিলো সন্তানরা

  • প্রকাশিত : সোমবার, ২৫ মার্চ, ২০২৪, ৯.৪২ এএম
  • ৮৬৯ জন পঠিত

মাদারীপুর ও টেকেরহাট সংবাদদাতা।
সব সম্পত্তি লিখে নিয়ে মাকে মারধরের পর ঘর থেকে করে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে সন্তানদের বিরুদ্ধে। পরে ৮২ বছরের হতভাগ্য ১০ সন্তানের মা ফরিদা বেগম এখন ঘুরছে রাস্তায় রাস্তায়।
৮২ বছরের হতভাগ্য ১০ সন্তানের মা ফরিদা বেগম। সাংবাদিকদের দেখা মাত্রই হাউমাউ করে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন এই বৃদ্ধা ফরিদা বেগম। ঘরবাড়ি আর কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি হারিয়ে এখন দিশেহারা তিনি। মাদারীপুর সদর উপজেলার পৌর পেয়ারপুর গ্রামের এ ঘটনায় তোলপাড় পুরো এলাকাজুড়ে।

জানা যায়, স্বামী কলম গড়িয়া মারা গেছে ৩৫ বছর আগে। এরপর মাথার ঘাম পায়ে ফেলে ৪ ছেলেকেই করেছেন প্রতিষ্ঠিত। এরমধ্যে বড়ছেলে দেলোয়ার গড়িয়া কাঁচামাল ব্যবসায়ী, মেজছেলে কামাল টিটিসিতে চাকুরি করেন, এরপর সেজোছেলে হেমায়েত পল্লী চিকিৎসক, আর ছোট ছেলে কাজল গড়িয়া এলজিইডিতে টেকনিশিয়ান হিসেবে কর্মরত। এছাড়া ৬ মেয়েকে বিয়েও দিয়েছেন সভ্রান্ত পরিবারে। অথচ, ফরিদার কপালে নেই সুখের দেখা। এই ১০ সন্তানের বিরুদ্ধেই ফরিদার অভিযোগ। তবে এই অভিযোগের তীর সবচেয়ে বেশি বড় ছেলে দেলোয়ার, আর ছোট ছেলে কাজলের উপর।

ফরিদা বেগম জানান, স্বামীর দান করা ও রেখে যাওয়া ৬৭ শতাংশ ফসলি জমি বিক্রি করে সন্তানদের মানুষ করেছেন। আর বাড়ির ৪৫ শতাংশ জমি বিভিন্ন সময়ে কারনে-অকারনে লিখে নিয়ে গেছে সন্তানরা। দলিলে লাখ লাখ টাকা জমির মূল্য দেখালেও ফরিদাকে দেয়া হয়নি একটি টাকাও। সম্প্রতি সবকিছু লিখে নেয়ার পর মারধর করে ঘরে থেকে বের করে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে ছোট ছেলের কাজল গড়িয়ার বিরুদ্ধে। এমন অবস্থায় বড়ছেলে দেলোয়ার তার মাকে বিষ খেয়ে মরে যেতে বলছে। এরপর রাস্তায় রাস্তায় ঘুরছেন হতভাগ্য এই মা।

ছোটছেলে মারধর করে ঘর থেকে বের করে দেয়ার পর আশ্রয় নিয়েছিলেন বড়মেয়ে সুফিয়া বেগমের বাড়িতে। সম্পত্তির ভাগ কম হওয়ায় বড়মেয়েও সাফ জানিয়ে দিয়েছেন মাকে দেখভাল করবেন না ও দিবেন না খাবারও। আর অন্যছেলেদের মুখেও একই কথা। তবে, মাকে মারধর করে ঘর থেকে বের করে দেয়া, আর জোড় করে সবসম্পত্তি লিখে নেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন অভিযুক্তরা। ফরিদার ১০ সন্তানের এমন কর্মকান্ডে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসীও। দোষিদের বিচারের পাশাপাশি ফরিদার সম্পত্তি ফিরিয়ে দেয়ার দাবি তাদের। সরকারিভাবে আইনগত সহায়তার পাশাপাশি ফরিদা বেগমের পাশে দাঁড়ানোর কথা জানান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।

ফরিদা বেগম বলেন, একটু সুখের আশা করেছিলাম সন্তানদের কাছে। এখন সেই সুখ কপালে নেই। স্বামীর রেখে যাওয়া ও আমার সব সম্পত্তি ছেলেরা কৌশলে লিখে নিয়ে গেছে। আমার এখন কিছুই নেই। বড় ছেলে ও ছোট ছেলে এই ঘটনার জন্য বেশি দায়ি। আমি আমার সব সম্পত্তি ফেরত চাই। আমি বৃদ্ধ বয়সে একটু শান্তি চাই।
ফরিদা বেগমের বড় মেয়ে সুফিয়া বেগম বলেন, আমাদের বোনদের অল্প সম্পত্তি দিয়েছে মা। এজন্য মাকে আমরা কেউই বাড়িতে রাখবো না। ছেলেদের সম্পত্তি বেশি দিয়েছে, তাদের কাছে মা থাকুক।

ফরিদা বেগমের ছোট ছেলে কাজল গড়িয়া বলেন, আমার মায়ের মাথায় একটু সমস্যা আছে। তাই মাঝেমাঝে উল্টাপাল্টা বলে। আমি মাকে মারধর করেনি আর জোড় করে সম্পত্তিও লিখে নেইনি। মা আমার নামে মিথ্যে কথা বলছে। আমার মা, ভাইদের একই সম্পত্তি বার বার লিখে দেয়াই সমস্যা হয়েছে। আমাদের ভাইদের মধ্যে দ্বন্দ্ব হয়েছে।

ফরিদা বেগমের সেজো ছেলে হেমায়েত গড়িয়া বলেন, ছোটভাই কাজল গড়িয়া বেশি সম্পত্তি লিখে নেয়ায় সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। আমাদের ভাইবোন সবাইকে সম্পত্তি সমান ভাগ করে দিলে মায়ের এই অবস্থা হতো না। আমার মাকে আমি বলেছি, আমার ঘরে থাকতে ও খাবার খেতে, কিন্তু মা আমাকে সম্পত্তি কম দেয়ায় সে, নিজেই আমার ঘরে থাকবে না।
ফরিদা বেগমের বড় ছেলে দেলোয়ার গড়িয়া বলেন, আমি জোড় করে সম্পত্তি লিখে নেয়নি। মা তার ১০ ছেলেমেয়েকে সম্পত্তি স্বেচ্ছায় লিখে দিয়েছে। মাকে আমি খাবার দেই না, এ কথা ঠিক না। মা আমার নামে যে অভিযোগ দিয়েছে, তা সঠিক নয়।

মাদারীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আল মামুন জানান, ফরিদা বেগমের স্বামী মারা গেছে ৩৫ বছর আগে। তিলে তিলে ৪ ছেলে ও ৬ মেয়েকে লালনপালন করে বড় করেছেন তিনি। অথচ, বৃদ্ধ বয়সে এই ফরিদার ঠাই হয়েছে মানুষের দ্বারে দ্বারে। এটা কিছুতেই মেনে নেয়া যাচ্ছে না। ফরিদার পাশে দাঁড়াতে সব ধরনের সহযোগিতা করবে প্রশাসন। আইনগত সহায়তার পাশাপাশি আর্থিক সহযোগিতাও করা হবে। এছাড়া জোড় করে সম্পত্তি লিখে নিলে সেটা ফেরত আনার ব্যাপারেও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

সর্বমোট ভিজিট করা হয়েছে

© All rights reserved © 2021

Design & Developed By : JM IT SOLUTION
error: Content is protected !!