মাদারীপুর, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ (বুধবার): মাদারীপুরে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা খাতে সেবার মানোন্নয়ন এবং সেবাপ্রদানে স্বচ্ছতা ও জবাদিহিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত হলো গণশুনানি। সিভিল সার্জনের কার্যালয় ও জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়, মাদারীপুর এবং ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) এর অনুপ্রেরণায় গঠিত সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক), মাদারীপুর এর যৌথ আয়োজনে মাদারীপুরের ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত গণশুনানিতে সেবাগ্রহীতাগণ, সাধারণ নাগরিক, সরকারি কর্মকর্তা, চিকিৎসক, নার্স, জনপ্রতিনিধি, আইনজীবী, ছাত্র-ছাত্রী, তরুণ, শিক্ষক, সাংবাদিক, স্কাউট, রেডক্রিসেন্ট, নারী নেত্রী, ব্যবসায়ী, সুশীল সমাজ, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, এনজিও কর্মী, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধি, সনাক, ইয়েস ও এসিজি সদস্যসহ বিভিন্ন শ্রেনি পেশার শতাধিক নাগরিক অংশগ্রহণ করেন।
গণশুনানি অনুষ্ঠানের অতিথি ডাঃ মোহাম্মদ শরীফুল আবেদীন কমল, সিভিল সার্জন এবং মতিউর রহমান, উপপরিচালক (পরিবার পরিকল্পনা), মাদারীপুর-এর উদ্বোধনী ও শুভেচ্ছা বক্তব্যে উঠে আসে, স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনাখাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরনের মধ্যদিয়ে সুশাসনের উন্নয়ন এবং জনগনের কাঙ্খিত স্বাস্থ্যসেবার অধিকারের বিষয়টি। তাঁরা সকলের সহযোগিতায় স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা সেবার মানোন্নয়নে কার্যকরী ভূমিকা পালনের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। মাদারীপুর সনাকের স্বাস্থ্য বিষয়ক উপকমিটির আহ্বায়ক ফরিদা ইয়াসমিন লাকী গণশুনানির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে বলেন, গণশুনানির মাধ্যমে নাগরিকগণ ও কর্তৃপক্ষকে সম্পৃক্ত করে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা ইস্যুতে বিভিন্ন স্থানীয় সমস্যা সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ, সেবাগ্রহীতা বা নাগরিকদের দাবি ও চাহিদাকে প্রাধান্য দিয়ে কার্যকর ও জনবান্ধব সেবা প্রদানের সুযোগ এবং সেবাদাতা ও সেবাগ্রহীতাদের মধ্যে মেলবন্ধন সৃষ্টি হবে বলে আমরা বিশ^াস করি।
গণশুনানিতে সেবাগ্রহীতাগণ সরাসরি জেলার স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্তৃপক্ষের কাছে তাঁদের বিভিন্ন অভিযোগ, অভিজ্ঞতা ও প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন। প্রশ্নোত্তরে, স্বাস্থ্যসেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলির বিভিন্ন ঘাটতি যেমন- লোকবল সংকট, অবকাঠামোগত সমস্যা, শৌচাগার সংকট, সেবাপ্রদানকারীদের জনবান্ধব ব্যবহারের সমস্যা, ঔষধের স্বল্পতা ও নিরবিচ্ছিন্ন ঔষধ সরবরাহের অভাব, আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জামের অভাব, অবাধ তথ্য প্রবাহ নিশ্চিতকরণে অনাগ্রহ, রোগ পরীক্ষা-নীরিক্ষার সমস্যা, নারী ও প্রতিবন্ধীবান্ধব পরিবেশ এর ঘাটতি, বাজেট স্বল্পতা, সেবাপ্রদানকারীদের সঠিকভাবে দায়িত্ব পালনের ঘাটতি, পরিচ্ছন্নতার অভাব, নিরাপত্তা সমস্যা, হাসপাতালে নিরাপদ ও পর্যাপ্ত খাদ্য পরিবেশন এর ঘাটতি, পানীয়জলের ব্যবস্থা না থাকা, সেবাগ্রহণকারীদের এরকম বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব ও মতামত দেন অনুষ্ঠানের অতিথি ডাঃ মোহাম্মদ শরীফুল আবেদীন কমল, সিভিল সার্জন ও মতিউর রহমান, উপপরিচালক (পরিবার পরিকল্পনা), মাদারীপুর। তাঁরা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা সেবায় বিদ্যমান সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে অবহিত হওয়ার পাশাপাশি সমস্যাগুলি সমাধানে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণেরও অঙ্গিকার করেন।
মুক্ত আলোচনায় সেবাগ্রহীতাদের পাশাপাশি সনাক, ইয়েস এবং এসিজি’র প্রতিনিধিবৃন্দ স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা সেবার উন্নয়নে তাদের মতামত ও প্রত্যাশা তুলে ধরেন। আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, ডাঃ অখিল সরকার, আবাসিক মেডিকেল অফিসার, হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য ডাঃ লুৎফর রহমান (সভাপতি, বিএমএ), ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতাল, ইন্দ্রানী দেবনাথ, সহকারী পরিচালক (পরিবার পরিকল্পনা), মাদারীপুর, ডাঃ নুরুল ইসলাম, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার, সদর, মাদারীপুর, প্রমূখ ব্যক্তিবর্গ। বক্তাগণ কর্তৃপক্ষের কার্যকর মনিটরিং ও স্থানীয় জনগনের সক্রিয় সম্পৃক্ততার মাধ্যমে মাদারীপুরের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে যথাযথ সেবাদানে সহযোগিতার উপর জোর দেন।
সনাক মাদারীপুরের সভাপতি খান মো. শহীদ গণশুনানি’র সমাপনী বক্তব্যে বলেন, স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের বিশাল কর্মজজ্ঞে জনস্বাস্থ্য উন্নয়নে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান সেবা দিয়ে যাচ্ছে। এক্ষেত্রে সদর হাসপাতাল ও জেলা হাসপাতালের পাশাপাশি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ইউনিয়ন স্বাস্থ্য উপকেন্দ্র, ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র, কমিউনিটি ক্লিনিকগুলির ভূমিকা অনস্বিকার্য। তিনি সীমাবদ্ধতাগুলি দূর করে প্রতিষ্ঠানগুলিতে দুর্নীতিমুক্ত ও সুশাসিত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার উপর গুরুত্বারোপ করেন। গণশুনানি অনুষ্ঠানটির সঞ্চালনায় ছিলেন, জনাব আঞ্জুমান আরা কবির (জুলিয়া), যুগ্ম-আহ্বায়ক, স্বাস্থ্য বিষয়ক উপকমিটি সনাক, মাদারীপুর।