1. abdulmotin52@gmail.com : ABDUL MOTIN : ABDUL MOTIN
  2. madaripurprotidin@gmail.com : ABID HASAN : ABID HASAN
  3. jmitsolution24@gmail.com : support :
রাজৈরে একজন সংগ্রামী নারীর জীবন ও জীবিকা - Madaripur Protidin
রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:১৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
মাদারীপুরে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা খাতে সেবার মানোন্নয়ন এবং সেবাপ্রদানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে গণশুনানি অনুষ্ঠিত সরকারের বিরোধীতা করলে জণগনের প্রতিরোধের মুখে পড়তে হবে- এনসিপি-জামায়াত ইসলামের উদ্দ্যেশে এমপি খোকন তালুকদার রাজৈরে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ। আহত ১০জন রাজৈরে পানিতে পড়ে ৫ বছর বয়সী দুই জমজ বোনের মৃত্যু  লিবিয়ায় বন্দির পরে নিখোঁজ মাদারীপুরের তিন যুবকের সন্ধান চেয়ে সংবাদ সম্মেলন রাজৈরে সংসদ সদস্যকে সংবর্ধনা মাদারীপুরে ভোক্তা অধিকারের ভ্রাম্যমান আদালত। তিন দোকানিকে ৬৭হাজার টাকা জরিমানা জাল দলিল করায় ৪ জনের  সাত বছরের সাজা: রাজৈরে ১৪ বছর পর আদালতের নির্দেশে জমি ফিরে পেলো  বাদী। রাজৈরে আওয়ামী লীগ থেকে অব্যাহতি নিলেন ইউপি চেয়ারম্যানসহ ১২ জন রাজৈরে ইউপি ও ১২জন মেম্বর আওয়ামীলীগ থেকে অব্যাহতি নিলেন ৭৫ জন যুবদের ১৫ দিনের প্রশিক্ষণ শেষে সনদ  প্রদান 

রাজৈরে একজন সংগ্রামী নারীর জীবন ও জীবিকা

  • প্রকাশিত : শুক্রবার, ১১ জুলাই, ২০২৫, ৮.০৫ এএম
  • ৮০১ জন পঠিত

মিলন খোন্দকার, রাজৈর (মাদারীপুর) প্রতিনিধি। প্রায় ২০ মাইল দুর থেকে প্রতিনিয়তই বাঙ্গী, শাকশব্জী ও বর্ষা মৌসুমে শাপলা, পদ্ম ফুলসহ গ্রামীন কৃষিপন্য বিক্রি করতে টেকেরহাটে আসে বিধবা রীনা রানী বিশ^াস। বিক্রি শেষে আবার চলে নিজ গ্রামে। কখন কখন বাড়ী ফিরতে রাত হয়ে যায়। বিক্রিলব্দ লভাংশ দিয়ে চলে তার সংসার । জীবন ও জীবিকার সংগ্রামের মধ্য দিয়ে ছেলেদের উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করেছেন তিনি। তবে এখনো সন্তানদের মুখ চেয়ে চলছে তার জীবন সংগ্রাম।
প্রতিনিয়তিই টেকেরহাটে ব্যবসা করতে আসা রীনা রানী বিশ^াস জানান, মাত্র ১২বছর বয়সে আমার বিয়ে হয় গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার সাতপাড় সিংড়া গ্রামের কানাই বিশ^াসের সাথে। বাবার বাড়ী রাথৈর পাচকোনি গ্রামে । বাবা প্রমথ বালা।

বিয়ের পর একে একে তিন সন্তান জন্ম নেয়। প্রায় ২০বছর আগে এ ছোট তিনটি বাচ্চা রেখে মাত্র ২০বছর বয়সে স্বামী কানাই বিশ^াস মারা যায়। শুর হয় জীবন ও জীবিকার সংগ্রাম । ছোট তিনটি শিশু সন্তানের মুখে অন্ন তুলে দিতে সমস্ত লাজলজ্জা দলিত করে নেমে পড়ে কর্মযজ্ঞে। বর্ষা মৌসুম রাত তিনটায় ঘুম থেকে ওঠে শাপলা তুলতে নেমে পড়ে সিংড়ার বিলে। আহরিত শাপলা বিক্রি করে পায় মাত্র ১০০টাকা । এটাই তার জীবন সংগ্রামের প্রথম আয়। এভাবে সংসার চলতে থাকে । এক সময়ে টেকেরহাটের এক ভ্যান চালকের দৃষ্টি পড়ে রীনার শাপলা বিক্রি কস্টের জীবনের গল্প। স্বহৃদয় ভ্যান চালক আশ^াস দেয় – আহরিত শাপলা সিংড়া বাজারে বিক্রি না করে মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার টেকেরহাটে বিক্রি করলে বেশী দাম পাওয়া যাবে। শুরু হয় তার টেকেরহাট আসা । ওই স্বহৃদয়বান ভ্যান চালক টেকেরহাট থেকে সিংড়া গিয়ে টেকেরহাট না চেনা রীনাকে শাপলাসহ টেকেরহাটে নিয়ে আসে। প্রথম দিনেই সে ১৫০০ টাকার শাপলা বিক্রি করে। খরচ বাদ েিয় তার ১২০০শত টাকা লাভ হয়॥ আর থেমে থাকেনি রীনা।

সেই থেকে আজ ২০ বছর যাবৎ বিভিন্ন কৃষিপন্য নিয়ে টেকেরহাটে আসছে। বাজারে গিয়ে কথা হয় এ প্রতিবেদকের সাথে। বলেন তার কষ্টের জীবনের গল্প। সে জানায়, বড় ছেলে রিপন বিশ^াস ফরিদপুর রাজেন্দ্র কলেজে এম এ পড়ছেন, ছোট ছেলে সৌরভ বর্তমানে গোপালগজ্ঞের সরকারি সাতপাড় কলেজে বিএ পড়ে। মনের কষ্ট চেপে অশ্রুসজল চোখে জানান,আমার কষ্টের জীবনে ভাগিদার না হয়ে বড় ছেলে রিপন একবছর পুর্বে প্রেম করে বিয়ে এক কলেজ পড়–য়া মেয়েকে । সেই পুত্রবধুও এখন সাতপাড় কলেজে অনার্সে পড়তেছে । তার লেখাপড়ার খরচ আমাকে (রীনা) জোগাতে হচ্ছে। দাদা জীবন বড়ই কষ্টের। কেউ কারো কষ্ট বোঝে না।

রীনা আরো জানান, স্বামী রেখে যাওয়া ২২ শতক জমির পাশাপাশি অন্যের জমি বর্গা নিয়ে চাষাবাদ করেন। ছেলেরা পড়াশুনার ফাকে বা কলেজ বন্দের ফাকে ছোট ছেলে শ্রমিকের কাজ করে কিছু টাকা ্টাকা উপার্জন করে মায়ের হাতে তুলে দেয়। বড় ছেলেও মাঝে মাঝে কৃষি কাজে মাকে সহায়তা করে।

রাজৈর উপজেলার পরিবেশবাদী এনজিও সংস্থা খালিয়া গন উন্নয়ন প্রচেষ্টার সহকারী পরিচালক, (প্রশিক্ষণ ও সমৃদ্ধি) মোহাম্মদ খায়রুল মর্তুজা মজুমদার জানান, বিধবা, স্বামী পরিতেক্তা এবং দরিদ্র নারীরা সন্তানের ভবিষ্যৎ ভালো হবে এ চিন্তাায় অমানবিক পরিশ্রম করে যাচ্ছে। তাদের মান উন্নয়নে আয়ের বিকল্প হিসেবে সরকারের কুটির শিল্প বিভাগ বা প্রাণি সম্পদ বিভাগের সহায়তায় প্রশিক্ষণসহ আর্থিক সহায়তা করা হলে এরা কঠিন পরিশ্রম থেকে রেহাই পেতে পারে।

রাজৈর নির্বাহী অফিসার ও রাজৈর পৌর মেয়র মোঃ মাহফুজুল হক জানান, এই ভাসমান নারী শাপলা বিক্রেতাসহ অন্যান্য ভাসমান নারী দোকানদারদের জন্য আলাদা নারী কর্নার অর্থাৎ সেই জায়গায় শুধু নারীরাই বসে নির্বিঘেœ মালামাল বিক্রয় করতে পারে তার ব্যবস্থা করে দেব।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

সর্বমোট ভিজিট করা হয়েছে

© All rights reserved © 2021

Design & Developed By : JM IT SOLUTION
error: Content is protected !!