1. abdulmotin52@gmail.com : ABDUL MOTIN : ABDUL MOTIN
  2. madaripurprotidin@gmail.com : ABID HASAN : ABID HASAN
  3. jmitsolution24@gmail.com : support :
লালমনিরহাটের পারভীন ভালোবাসার টানে বাবা-মা ছেড়ে অন্ধ প্রেমিককে বিয়ে করে ২১ বছর ধরে আছেন মাদারীপুুরে - Madaripur Protidin
বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১০:১০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
টেকেরহাটে মোবাইল ছিনতাইকারিকে ধরতে গিয়ে মারা গেল মৃজন মতুব্বর শারদীয় দুর্গাপুজা: রাজৈরে পুজা মন্ডপ পরিদর্শনে সংসদ সদস্যসহ জেলা প্রশাসন বাংলাদেশকে আর কোন আধিপত্য শক্তির আওতায় আসতে দিবে না জনগণ- মাদারীপুরে এনসিপি’র আহবায়ক নাহিদ ইসলাম মাদারীপুরে বিচারকের বাসভবনের সামনে একাধিক ককটেল বিস্ফোরণ মাদক সমাজ ও রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ অন্ধকার করে দিচ্ছে: জাহান্দার আলী মিয়া এমপি। মাদারীপুরে ডিবির অভিযানে ৭ জন আটক, ইয়াবা উদ্ধার রাজৈরে যাত্রীবাহী বাস ও মাহিন্দ্রের মুখোমুখি সংঘর্ষে কিশোরী নিহত, আহত ২ রাজৈরে দুঃস্থ   পরিবারকে আধাপাকা ঘর নির্মান করে দিচ্ছে  গাংকান্দি উন্নয়ন ফাউন্ডেশন রাজৈরে ৮কেজি গাজাসহ যুবক গ্রেপ্তার মাদারীপুরের টেকেরহাটে আধুনিক মানের  প্রাইভেট হসপিটালের উদ্বোধন করলেন এমপি জাহান্দার আলী মিয়া। 

লালমনিরহাটের পারভীন ভালোবাসার টানে বাবা-মা ছেড়ে অন্ধ প্রেমিককে বিয়ে করে ২১ বছর ধরে আছেন মাদারীপুুরে

  • প্রকাশিত : বৃহস্পতিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪, ৪.৫৫ পিএম
  • ৬০৫ জন পঠিত

টেকেরহাট (মাদারীপুর) সংবাদদাতা।।

ভালোবাসার টানে অন্ধ প্রেমিককে বিয়ে করে ২১ বছর ধরে সংসার করছেন পারভীন বেগম। স্বামী অন্ধ হলেও এ নিয়ে তার কোন দুঃখ নেই। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত স্বামীকে ভালোবেসেই জীবন পার করতে চান তিনি। তাই অন্ধ স্বামীকে সাথে নিয়ে মাদারীপুর শকুনি লেকপাড়ে খেলনা বিক্রি করে জীবন নির্বাহ করছেন তারা। একমাত্র মেয়েকে বিয়ে দিয়ে সংসার জীবনে দুইজনেই আছেন ভালোবাসার বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে।

খোজ নিয়ে জানা যায়, রংপুর বিভাগের লালমনিরহাট জেলার কালীগঞ্জের আ. জব্বারের মেয়ে পারভীন বেগম (৩৮)। এক সময় তিনি ঢাকায় তার এক মামা-মামীর কাছে থাকতেন। ওই সময় ঢাকাতে যান মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার আন্ডারচর গ্রামের ফজলুর রহমান সরদারের ছেলে সরদার আশিকুর রহমান (৪৪)। এক পর্যায় দুইজনের সাথে প্রথমে পরিচয় হয়। এরপর দুইজনের মধ্যে প্রেমের সর্ম্পক হয়। অন্ধ জেনে ও বুঝেও পারভীন প্রচন্ডভাবে ভালোবেসে ফেলেন আশিকুর রহমানকে। সেই প্রেমের সূত্র ধরে বাবা-মায়ের অমতেই মামা-মামীর সহযোগিতায় বিয়ে করেন আশিকুরকে। বিয়ের পর ২১ বছর পার হলেও এখন পর্যন্ত পারভীনের বাবা-মা তার অন্ধ স্বামীকে মেনে নেননি। এতেও দু:খ নেই পারভীনের। তার ভালোবাসার মানুষটিকে নিয়ে তিনি সুখেই আছেন। ২০০৩ সালে বিয়ের পর স্বামীর সাথে মাদারীপুরে চলে আসেন। এরপর শহরের চৌরাস্তায় বাসা ভাড়া করে থাকেন দুজন। তাদের সংসারে একটি মেয়ে হয় আফিয়া আক্তার আখি (১৮)। তাদের পছন্দমতো ছেলে পাওয়ায় মেয়েকে বিয়ে দিয়ে দেন।

খোজ নিয়ে আরো জানা যায়, সরদার আশিকুর রহমানের ডাক নাম হেমায়েত। ১৯৯৫ সালে আন্ডারচর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করেন। এরপর মাদারীপুর সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। পরবর্তীতে জাহাঙ্গীর নগর বিশ^বিদ্যালয় থেকে ইংরেজিতে অনার্স করেন। কবিতা লিখেন ও ভালো বাশিও বাজান তিনি।

সরদার আশিকুর রহমান বলেন, প্রায় ২৪ বছর আগে আমাকে কালকিনির একটি মামলায় সাক্ষী করা হয়। কিন্তু বিষয়টি আমি জানতাম না। তাই আদালতেও সাক্ষীও দেইনি। এর কিছুদিন পর আমি লঞ্চে করে ঢাকা থেকে নিজ গ্রামে আসার পর প্রতিপক্ষ আমার দুচোখ তুলে ফেলে। এরপর ঢাকার একটি চক্ষু হাসপাতালে চিকিৎসা নেই। তখন ঢাকায় পারভীনের সাথে আমার পরিচয় হয়। পরিচয়ের সূত্র ধরে প্রেম করে বিয়ে করি। অন্ধ জেনেও পারভীন ভালোবেসেই আমাকে বিয়ে করেন। এখনও ভালোবেসেই পারভীন আমার কাছেই আছে।

তিনি আরো বলেন, জীবন যুদ্ধে হারার মতো মানুষ আমি নই। তাই স্ত্রীকে নিয়ে শুরু হয় নতুন করে জীবন যুদ্ধ। মাদারীপুর শহরের লেকপাড়ে স্ত্রী পারভীনকে নিয়ে খেলনা ও বাশি বিক্রি করি। বাশিতে সুর দিলে অনেকে মুগ্ধ হয়ে লেকে ঘুরতে আসা লোকজন শোনেন, তা আমার খুব ভালো লাগে। লেকপাড়ে ঘুরতে আসা ছোট ছোট ছেলে-মেয়েরা আমার খেলনা কিনেন। খেলনা বিক্রির টাকায় আমাদের দুইজনের সংসার ভালোভাবেই চলে যায়। তাছাড়া পারভীন আমার যতœ নেন। আমাকে যথেষ্ট মুল্যায়ন করে, ভালোবাসে এভাবেই আমরা সারাজীবন থাকতে চাই।

পারভীন বেগম বলেন, ও অন্ধ জেনেই ওকে ভালোবেসে বিয়ে করেছি। মৃত্যুর পর্যন্ত ওর সাথেই থাকতে চাই। আমার পরিবার এই বিয়ে না মানলেও আমি খুব ভালো আছি। ওকে নিয়েই আমি সুখি। এমন একজন মানুষের পাশে থাকতে পেরে সত্যিই নিজেকে ধন্য মনে করছি। খেলনা ও বাঁশি বিক্রির আয় দিয়ে আমাদের জীবন ভালোই চলছে।

লেকপাড়ে ঘুরতে এসে খেলনা কিনতে আসা জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, আমার নাতির জন্য খেলনা কিনতে এসেছি। খেলনা কিনলে আমি এখান থেকেই কিনি। আসলে স্বামী-স্ত্রীর এমন কাজ দেখে ভালো লাগে।

মাদারীপুরের উন্নয়ন সংস্থা দেশগ্রামের নির্বাহী পরিচালক এবিএম বজলুর রহমান খান বলেন, আসলে বর্তমান যুগে অন্ধ স্বামীকে নিয়ে বছরের পর বছর পার করা প্রশংসনীয় ব্যাপার।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

সর্বমোট ভিজিট করা হয়েছে

© All rights reserved © 2021

Design & Developed By : JM IT SOLUTION
error: Content is protected !!