রাজৈর(মাদারীপুর) প্রতিনিধি
মাদারীপুরের রাজৈরে স্বামীর পরকীয়া প্রেমের প্রতিবাদ করায় দুই মাসের অন্তসত্ত্বা স্ত্রী মাইশাকে (১৭)শ্বাসরোধে হত্যার পর আত্মহত্যা করেছে বলে প্রচার করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামী সুজন মুন্সীকে আটক করেছে রাজৈর থানা পুলিশ। বুধবার (৪ নভেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার কবিরাজপুর ইউনিয়নের শ্রীকৃষ্ণদী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত সুজন মুন্সী একই ইউনিয়নের শ্রীকৃষ্ণদী গ্রামের আব্দুর রব মুন্সীর ছেলে। নিহত জান্নাতুল ইসলাম মাইশা পাশর্^বর্তী গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার চরপ্রসন্নদী এলাকার হাবিবুর রহমান সেজালের মেয়ে। 
পুলিশ ও নিহতের পরিবারের সদস্যদের সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সৌদি আরবপ্রবাসী সুজনের সঙ্গে পারিবারিকভাবে মাইশার বিয়ে হয়। বিয়ের পর স্বামী সুজন মুন্সী তার ভাগ্নীর সাথে পরকীয়া প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে এবং এ সম্পর্ক নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়।স্বামী সুজন ও শাশুড়ী এ নিয়ে মাইশাকে একাধিকবার মারধর ও গালিগালাজ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
হাসপাতালে গিয়ে মাইশার শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পান স্বজনেরা। তাদের সন্দেহ হলে রাজৈর থানায় খবর দেওয়া হয়। পরে পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে সুজনকে আটক করে।
নিহতের মা লাভলী বেগম অভিযোগ করে বলেন, বুধবার বিকেলে একপর্যায়ে মাইশাকে শ্বাসরোধে হত্যার পর ঘরের ভেতরে ঝুলিয়ে রাখা হয়। আমি ওর ফাঁসি চাই । পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, মাইশা দুই মাসের অন্তসত্ত্বা ছিলেন।
রাজৈর থানার ওসি তদন্ত কুতুবুদ্দিন আহম্মেদ বলেন, বুধবার রাতেই মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়। আজ বৃহস্পতিবার সকালে ওই মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য মাদারীপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে হয়েছে। মা লাভলী বেগম বাদী হয়ে নিহতের স্বামীসহ ৮জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করেছে।
ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ আমিনুল জানান ইসলাম জানান মামলা দায়েরে পর এ ঘটনায় নিহতের স্বামী সুজনসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।