1. abdulmotin52@gmail.com : ABDUL MOTIN : ABDUL MOTIN
  2. madaripurprotidin@gmail.com : ABID HASAN : ABID HASAN
  3. jmitsolution24@gmail.com : support :
১০ ডিসেম্বর মাদারীপুর মুক্ত দিবস ॥ দু‘দিনের সম্মুখ যুদ্ধের পর ৫৩ হানাদারের আত্মসমর্পণ - Madaripur Protidin
সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০২:৪০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
টেকেরহাটে মোবাইল ছিনতাইকারিকে ধরতে গিয়ে মারা গেল মৃজন মতুব্বর শারদীয় দুর্গাপুজা: রাজৈরে পুজা মন্ডপ পরিদর্শনে সংসদ সদস্যসহ জেলা প্রশাসন বাংলাদেশকে আর কোন আধিপত্য শক্তির আওতায় আসতে দিবে না জনগণ- মাদারীপুরে এনসিপি’র আহবায়ক নাহিদ ইসলাম মাদারীপুরে বিচারকের বাসভবনের সামনে একাধিক ককটেল বিস্ফোরণ মাদক সমাজ ও রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ অন্ধকার করে দিচ্ছে: জাহান্দার আলী মিয়া এমপি। মাদারীপুরে ডিবির অভিযানে ৭ জন আটক, ইয়াবা উদ্ধার রাজৈরে যাত্রীবাহী বাস ও মাহিন্দ্রের মুখোমুখি সংঘর্ষে কিশোরী নিহত, আহত ২ রাজৈরে দুঃস্থ   পরিবারকে আধাপাকা ঘর নির্মান করে দিচ্ছে  গাংকান্দি উন্নয়ন ফাউন্ডেশন রাজৈরে ৮কেজি গাজাসহ যুবক গ্রেপ্তার মাদারীপুরের টেকেরহাটে আধুনিক মানের  প্রাইভেট হসপিটালের উদ্বোধন করলেন এমপি জাহান্দার আলী মিয়া। 

১০ ডিসেম্বর মাদারীপুর মুক্ত দিবস ॥ দু‘দিনের সম্মুখ যুদ্ধের পর ৫৩ হানাদারের আত্মসমর্পণ

  • প্রকাশিত : রবিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০২৩, ৯.৫৮ এএম
  • ৫৫৩ জন পঠিত

মাদারীপুর সংবাদদাতা। ॥
১০ ডিসেম্বর মাদারীপুর মুক্ত দিবস। আজকের এই দিনে একটানা দুই দিন এক রাত
সম্মুখ যুদ্ধে পর্যুদস্তু হানাদার বাহিনী মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে আত্মসমর্পণ করলে জেলা
শত্র“ মুক্ত হয়। হাজার হাজার মুক্তিকামী মানুষ বাঁধভাঙ্গা জোয়ারের মত জয় বাংলা শ্লোগান
দিয়ে রাস্তায় নেমে আনন্দ উল্লাসে ফেটে পড়ে।

ডিসেম্বরের প্রথম থেকেই মাদারীপুরের সব ক‘টি থানা মুক্তিযোদ্ধাদের দখলে চলে আসে। এ কারণেই হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসররা মাদারীপুর শহরের এ.আর হাওলাদার জুট মিলের অভ্যন্তরে ও নাজিমউদ্দিন কলেজে অবস্থান নেয়। মুক্তিযোদ্ধারা চারদিক থেকে তাদের ঘিরে রাখে। ৮ ডিসেম্বর দুপুরে তৎকালীন মহকুমা প্রশাসক আবদুল মতিনের ড্রাইভার আলাউদ্দিন কলাগাছিয়া মুক্তিযোদ্ধা ক্যাম্পে সংবাদ পৌঁছে দেয় যে, ৯ ডিসেম্বর ভোর রাতে পাক বাহিনী মাদারীপুর থেকে ফরিদপুরের উদ্দেশ্যে পালিয়ে যাবে। এ সংবাদ পেয়ে বিভিন্ন অঞ্চলের ৩ শতাধিক মুক্তিযোদ্ধা বর্তমান সদর উপজেলার ঘটকচর থেকে সমাদ্দার ব্রিজের পশ্চিম পাড় পর্যন্ত মহাসড়কের দু‘পাশে প্রায় ৪.কিমি ব্যাপী অবস্থান নেয়। ৯ ডিসেম্বর ভোর ৫ টায় হানাদার বাহিনী গোলবারুদ, অস্ত্র ও কনভয়সহ তাদের বাঙালি দোসর রাজাকার, আলবদর, আলসামস ও মুজাহিদ বাহিনী নিয়ে ফরিদপুরের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। ভোর সাড়ে ৫ টার দিকে ঘটকচর ব্রিজ পার হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আক্রমন শুরু করে। মুক্তিযোদ্ধাদের তাড়া খেয়ে হানাদার বাহিনী দ্রুত গাড়ি চালাতে থাকে। অবস্থা বেগতিক দেখে তারা একটি কনভয় থেকে নেমে কভার ফায়ার করতে করতে আরো দ্রুত সকল গাড়ি নিয়ে এগুতে থাকে। এ সময় হানাদার বাহিনীর ফেলে যাওয়া কনভয় থেকে মুক্তিযোদ্ধারা বিপুল পরিমান অস্ত্র ও গোলাবারুদ সংগ্রহ করে নেয়। সমাদ্দার ব্রিজে ৯ ডিসেম্বর সারা দিন সারা রাত এবং ১০ ডিসেম্বর সারা দিন সম্মুখ যুদ্ধ চলে মুক্তিযোদ্ধা ও হানাদার বাহিনীর মধ্যে। তুমুল যুদ্ধের এক পর্যায়ে হানাদার বাহিনীর গোলা-বারুদ স্তিমিত হয়ে আসলে ১০ ডিসেম্বর বিকেলে মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষ থেকে হ্যান্ডমাইক যোগে পাকি বাহিনীকে আত্মসর্পনের আহবান জানানো হয়।

এতে সাড়া দিয়ে হানাদার বাহিনী রাইফেলের মাথায় সাদা কাপড় উড়িয়ে বাঙ্কার থেকে বেরিয়ে আসে এবং পাশের খাল থেকে পানি, গাড়ি থেকে শুকনো খাবার ও গোলা-বারুদ নিয়ে পূনরায় বাঙ্কারে ঢুকে গোলাগুলি শুরু করে। মুক্তিযোদ্ধাদের তীব্র প্রতিরোধের মুখে সন্ধ্যার আগেই হানাদার বাহিনীর মেজর আবদুল হামিদ খটক ৩৭ পাকিসেনা ও ১৪ মুজাহিদ নিয়ে ৫৩ পাকি জল্লাদ মুক্তিযোদ্ধা খলিল বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পন করতে বাধ্য হয়। মিত্র বাহিনী ছাড়া মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে পাকি বাহিনীর আত্মসমর্পনের মধ্যদিয়ে মাদারীপুর শত্র“মুক্ত হয়। এই যুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন খলিল বাহিনী প্রধান বীর মুক্তিযোদ্ধা খলিলুর রহমান খান। যুদ্ধে শহীদ হন মাদারীপুরের সর্বকনিষ্ঠ মুক্তিযোদ্ধা সরোয়ার হোসেন বাচ্চু এবং যুদ্ধে ২০ হানাদার সেনা নিহত হয়। আত্মসমর্পনের পর মুক্তিযোদ্ধারা আত্মসমর্পনকারীদের অস্ত্রশস্ত্র কভার করে সারা রাত সমাদ্দার ব্রিজে অবরোধ করে রাখেন। পরদিন ১১ ডিসেম্বর সকালে তাদের নিয়ে যাওয়া হয় কলাগাছিয়ায় মুক্তিযোদ্ধাদের ক্যাম্পে। ১২ ডিসেম্বর তাদেরকে মাদারীপুরে এনে সাব-জেলে বন্দী করে রাখা হয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

সর্বমোট ভিজিট করা হয়েছে

© All rights reserved © 2021

Design & Developed By : JM IT SOLUTION
error: Content is protected !!